
পাশাপাশি পুলিশ অভিযুক্তদের জবানবন্দি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, অভিযুক্তদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ—সব এক সুতায় গেঁথে ষড়যন্ত্র থেকে হত্যা পর্যন্ত পুরো ঘটনার দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রবিবার প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গোয়েলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ।
১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল, কে, কখন, কিভাবে কেতন আগরওয়ালকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, কিভাবে ধাক্কা দিয়েছিল; তা সঠিকভাবে জানতে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণ করতেই সিয়াকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।
পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্ট সন্দীপ সিং গিল জানান, ‘অভিযুক্তদের লোহাগড় দুর্গে, বিশেষ করে যে স্থানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের জন্য। ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা আবার তৈরি করা হচ্ছে। তারা কোন পথ ব্যবহার করেছিল, অভিযুক্তরা কোথায় অবস্থান নিয়েছিল, তারা ঠিক কী করেছিল এবং ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছিল। অভিযুক্তরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।
সিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অপরাধের দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়াটি পুলিশ ভিডিও করেছে। পুলিশের তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার লোহাগড় দুর্গে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ শনিবার লোনাভালা গ্রামীণ থানায় সিয়ার বাবা প্রবীণ গোয়েল, মা পূজা গোয়েল ও ভাই সাহিল গোয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সকাল ১১টার দিকে গোয়েল পরিবার থানায় পৌঁছায় এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে শুক্রবারও সাহিলকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সিয়া ও কেতনের বিয়ের মধ্যস্থতাকারী মিত্তাল পরিবারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।
কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় তার পিতা বিশাল আগরওয়াল গত ২৩ জুন লোনাভানা থানায় এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআরে বলা হয়, কেতন সম্প্রতি তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে সিয়া অস্বাভাবিক আচরণ করছেন, খামখেয়ালিপনা করছেন এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে ঝগড়া করছেন।
গত ৪ জুন লোহাগড় দুর্গে যেতে চেয়েও যেতে না পারায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সিয়া। সিয়া তাকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যেতে কেতনের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। কেতনের পরিবার তাকে ১৮ জুন লোহাগড় যেতে দিতে চায়নি। ১৭ জুন রাতে সিয়া গোয়েল কেতন আগরওয়ালকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় নিয়ে যেতে চাপাচাপি করেন এবং তার পরিবারকে রাজি করাতে বলেন। পরে সিয়া নিজেই তার হবু শাশুড়ি রাঁখি আগরওয়ালকে ফোন করে রাজি করান।
এফআইআরে বলা হয়, ১৮ জুন সকালে কেতন আগরওয়াল বাড়ি থেকে বের হন এবং পুনে-মুম্বাই মহাসড়কের কিওয়ালে সেতু থেকে সিয়া গোয়েলকে গাড়িতে তুলে নিয়ে লোহাগড় যান। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সিয়া গোয়েল তার হবু শাশুড়িকে ফোন করে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে কেতন অসাবধানতাবশত লোহাগড় দুর্গের একটি খাদে পড়ে গেছেন।
এফআইআরে বলা হয়, ঘটনার তিন দিন পর গত ২১ জুন কেতন আগরওয়ালের বাবা এবং আত্মীয়-স্বজনরা যেখান থেকে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন, ঠিক সেই জায়গাটি পরিদর্শন করেন। তাদের মনে হয়েছে, ওই স্থান থেকে দুর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এদিকে কেতনের খুনিদের বিচারের দাবিতে মোমবাতি মিছিল করেছে পুনের গাহুঞ্জে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। আগরওয়াল পরিবার গাহুঞ্জে এলাকায় বসবাস করে। মিছিলে অংশ নিয়ে কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, ‘আমাদের ছেলের হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ভয়ে এগিয়ে এসে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
মোবাইল: +৮৮০১৭১১৯৯৭৯৫৭
ইমেইল: sahabibcomilla@gmail.com
24newstv.tv