একই সঙ্গে বিচার বিভাগের গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও সংসদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতি আয়োজিত ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও বিচারবিভাগের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, বিগত সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সে উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের কোনো তৎপরতা জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের কার্যকর নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মবের শাসনের পরিবর্তে আইনের শাসনে ফিরতে হবে। কোনো নির্বাচিত সরকারই মবতন্ত্রের কাছে জিম্মি হতে পারে না।
বিচার বিভাগের ওপর জনআস্থা নষ্ট হলে সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। গত ১৭ বছর বিরোধী দলগুলো যে ধরনের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার দাবি করেছে, এখন সেই ধরনের বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।সভায় গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথে বাধা তৈরি হচ্ছে। বিচার বিভাগের সচিবালয় গুটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, সরকার-সমর্থকরা যদি আবার সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।
আইনজীবী সমিতির নির্বাচনগুলো যেভাবে একতরফাভাবে হচ্ছে, তা অতীতের পরিস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। তিনি সবাইকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সুমন মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট অনুরুদ্ধ সরকার, অ্যাডভোকেট পিয়াস মজুমদার ও মীর রেজাউল আলম।
সভা শুরুর আগে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।