
আজ রবিবার রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন।
আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দুই যুবক কিভাবে চারজনকে হত্যা করল জানতে চাইলে পুলিশ দাবি করে, দুইজনই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। একে একে চারজনকে হত্যা করে তারা।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের ধারণা ছিল এটি ডাকাতির ঘটনা। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, লাশ উদ্ধারের সময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। কারণ বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থান ভাঙা ছিল। কাপড়চোপড় ও বিভিন্ন মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দাবি করে, চারজনকে হত্যার পরও ওই বাড়িতে রাত কাটায় দুই ঘাতক। পরদিন সকালে গোসল ও খাওয়া শেষে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাটির নিচে পুঁতে রাখে তারা।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “তদন্ত ভিন্ন দিকে নিতে বাড়ির মালামাল ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে ‘ডাকাতির মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।” একই সঙ্গে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আরো কোনো কারণ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
গত রাতে চারজনের লাশ উদ্ধারের পর ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদেহগুলো মর্গেই আছে।
মোবাইল: +৮৮০১৭১১৯৯৭৯৫৭
ইমেইল: sahabibcomilla@gmail.com
24newstv.tv