দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক: ১১ জুন ২০২৬
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

রাজধানীর যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা এবং একটি ‘মাল্টিমোডাল হাব’ গড়ে তোলার কাজ চলছে। এছাড়াও প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরির জন্য সম্ভাব্য করিডোর চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের পাশাপাশি ৬টি মেট্রোরেল লাইনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত থাকবে মনোরেলভিত্তিক ফিডার সার্ভিস। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় পর্যায়ক্রমে পুরোনো বাসের পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালু করা হয়েছে। পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ এবং অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ইলেকট্রনিক টোল আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পেশ করা এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী এই বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এর আগে দুপুরে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি প্রদান করেন।