হবিগঞ্জে পানিবন্দি ৩ গ্রাম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া ঢলে ভান্ডারুয়া, জামালপুর ও এক্তিয়ারপুর গ্রামের শত শত পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, ওই তিন গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাতারাতি পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তিনটি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপদ স্থানে সরে যেতেও পারছেন না।

 

পাহাড়ি ঢলের পানিতে কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি এবং গবাদিপশুর খাদ্যও নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি কাঁচা ও মাটির তৈরি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ভূমিধস হয়েছে।

এক্তিয়ারপুর গ্রামের কৃষক সুন্দর আলী বলেন, আমার ঘরে পানি উঠেছে। রাস্তায় হাঁটুর উপরে পানি।

ফলে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি তিনিসহ স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন ফসলও পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। 

জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ূন কবীর বলেন, আকস্মিক এই বন্যায় সারা গ্রামে পানি এসেছে। আমরা সবাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। গবাদিপশুসহ আমাদের ফসল নষ্ট হয়েছে।

 

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম ফয়সলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অতি তাড়াতাড়ি যেন তাদের গ্রাম পরিদর্শন করে ত্রাণ দেওয়া হয়।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ চৌধুরী শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।’

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমি ইতিমধ্যে বিষয়টির খোঁজখবর নিয়েছি। আসলে ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে বাড়িঘরে পানি উঠেছে। যদি কারো মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে দেব। ইতিমধ্যে পিআইও এবং উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। তবে বর্তমানে ওই এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে পানি কমতে শুরু করেছে।

আরো দেখুন