যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাড়ছে উত্তেজনা, নেপথ্যে কী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাড়ছে উত্তেজনা, নেপথ্যে কী

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সিনিয়র ফেলো সামির পুরি আলজাজিরাকে বলেন, এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা।
পারস্পরিক হামলার ফলে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামির পুরি।
পুরির মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিন ও সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এমনকি আইআরজিসিও স্বীকার করেছে যে কিছু মার্কিন হামলায় রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আইআইএসএসের এই বিশ্লেষকের ধারণা, এসব হামলার লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নয়; বরং হরমুজ প্রণালিতে নজরদারি চালানোর এবং জাহাজবিরোধী হামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার কৌশলও এর পেছনে থাকতে পারে।
পুরি বলেন, এতে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখনও এমন একটি সামরিক কৌশল অনুসরণ করছে, যার উদ্দেশ্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নজরদারি ও জাহাজবিরোধী সক্ষমতাকে শারীরিকভাবে ধ্বংস করা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে গেলে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।