জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি যেদিন দেখলাম আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন, সেদিনই কনফার্ম (নিশ্চিত) হয়েছিলাম যে এ দেশের জনগণের মুক্তি হবেই। যে দেশের ছাত্ররা মুক্তির জন্য বুক পেতে দিতে পারে, তাদের কেউ রুখে দাঁড়াতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ওই কঠিন সময়ে বিএনপির সিনিয়র নেতা ও বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিনও আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, যে দেশের মানুষ রক্তের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না, তাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বেগম খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ত্যাগ, অবদান এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতার ধারাবাহিক রক্তদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এই সবকিছুর সমন্বয়েই ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনার পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিদেশি শক্তির প্রচ্ছন্ন মদদ ছিল, কিন্তু আমাদের সঙ্গে ছিল কেবল নিরস্ত্র সাধারণ জনগণ ও ছাত্র সমাজ। তারা খালি হাতে লড়াই করে এই সশস্ত্র ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।’
দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আর কখনো রাজপথে গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিতে চাই না। আমাদের মধ্যে বহু মত ও দ্বিমত থাকবে, যা সংসদ ও সংসদের বাইরে চর্চা হবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি, তবে তা কেবল স্বৈরাচারের ফেরার পথকেই প্রসারিত করবে।’
ফ্যাসিবাদের পুনরুৎপাদন রোধে জাতীয় ঐক্য এবং সংসদীয় ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য দেশের সব মহলের প্রতি আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
