খানাখন্দে অচল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার

খানাখন্দে অচল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬

কুমিল্লায় মাত্র ১ কিলোমিটার সড়কের খানাখন্দে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ। দেশের ‘লাইফলাইন’খ্যাত এই মহাসড়কে গত ১৫ দিন ধরে এমন অচলাবস্থা বিরাজ করছে। মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসসংলগ্ন আমতলী এলাকার ওই ১ কিলোমিটার ভাঙা সড়কে পৌঁছেই ধীরগতির হয়ে পড়ছে সব ধরনের যানবাহন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে মহাসড়কের খানাখন্দ সংস্কারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, প্রতি বছর একই অংশে সংস্কার করা হলেও বর্ষা এলেই আবার বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান যোগাযোগ পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এর কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে টেকসই সংস্কার করা হয় না। তাদের দাবি, প্রতি বছর বিভাগীয় সংস্কারের নামে নিম্নমানের ইট, বালু ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়। ফলে বর্ষা এলেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় খানাখন্দ।
সম্প্রতি ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলায় দীর্ঘদিন ধরে যানজট নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে টানা তিন-চার সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে সড়কে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সংস্কার কাজের জন্য তৈরি বিকল্প লেনেও পানি জমে কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে।
শনিবার এই আমতলী অংশকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে। দীর্ঘ সময় আটকে থেকে অতিষ্ঠ অনেক চালক উলটো পথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকামুখী লেনে সৃষ্ট যানজট কুমিল্লার আলেখারচর থেকে শুরু হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সড়ক বিভাগ গত তিন মাস ধরে আমতলী অংশে সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। এতে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ সামলাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের পুলিশ সদস্যরা গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত মহাসড়কে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সড়ক দ্রুত মেরামত না করা হলে শুধু পুলিশ পাহারা দিয়ে ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়।
যানজটে আটকে থাকা এশিয়া লাইন বাসের চালক আবুল কালাম বলেন, প্রতি বছরই সড়ক বিভাগ সংস্কারের নামে অনিয়ম-দুর্নীতি করে। নিম্নমানের ইট, বালু ও বিটুমিন দিয়ে তারা প্রতিবছর সংস্কার করে। কিন্তু দুদিনের বৃষ্টিতেই সেই সংস্কার ধুয়ে-মুছে যায়। আমতলী এলাকার খানাখন্দে গাড়িগুলোর ধীরগতির কারণে পুরো মহাসড়কে মাইলের পর মাইল যানজট তৈরি হচ্ছে।
লরি চালক আবু রায়হান বলেন, গত তিন মাস ধরে আমতলী এলাকার খানাখন্দে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। এক কিলোমিটার সড়ক পার হতে ২০ কিলোমিটার যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মালামাল বোঝাই ট্রাক নিয়ে গর্তে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে পিঁপড়ার গতিতে চলতে হয়।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুমিল্লার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণে সড়কের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়ক চলাচলের উপযোগী রাখতে নিয়মিত ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। আমতলী অংশের সংস্কারকাজ ঠিক কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছি না।
কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, সংস্কারে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি সঠিক নয়। আমতলী এলাকায় বৃষ্টির পানি অপসারণের ড্রেন নেই। এতে প্রতিবছর বর্ষায় এখানে পানি জমে থাকে। ফলে সংস্কার টেকসই হয় না। আমরা ওই স্থানে টেকসই মেরামত এবং পাশের ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা করছি।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম বলেন, মহাসড়কের আমতলী এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে এখানে এসে যানবাহনের গতি থমকে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বারবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও টেকসই কোনো সমাধান হয়নি।