জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জনগণের প্রত্যাশা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জনগণের প্রত্যাশা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ঐতিহ্যবাহী হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক জাতিসংঘ সফরে এসেছেন। তিনি দেশের জনগণের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দেশপ্রেম, অনুভূতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকে ধারণ করে বিশ্ব দরবারে উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে পরিচালিত হওয়া উচিত, কীভাবে দেশের সার্বভৌম স্বার্থ সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং কীভাবে দেশের সকল স্তরের মানুষের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অর্জিত হতে পারে—তা তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও পারিবারিক উত্তরসূরি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পিএমও মুখপাত্র বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্ব শান্তির বার্তা মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সেই ঐতিহাসিক উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধার দাবি উপস্থাপন করবেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং নতুন নেতৃত্বের রূপরেখা তুলে ধরার এটিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে নির্ধারিত বক্তব্য দেবেন।
ব্যয়সংকোচন ও সংক্ষিপ্ত সফর
বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রচলিত দীর্ঘ সফর ও বড় কূটনৈতিক বহরের রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত ও কর্মমুখী সফরের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে নির্ধারিত কর্মসূচির ওপরই গুরুত্ব দেবেন।
মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, যাতায়াতের জন্য বরাদ্দ দুই দিন বাদ দিলে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কর্মদিবস মাত্র চার দিন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, বহুপক্ষীয় সভা এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের কলেবর সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, বিগত দিনের প্রচলিত চর্চা থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও দাপ্তরিকভাবে এই প্রতিনিধি দলে ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের বাইরে জরুরি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যক্তিগত সহায়তাকারী দলের সদস্যরা রয়েছেন। সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিনী ড. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন।
প্রথম দিনের কর্মসূচি ও ব্যস্ত সূচি
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নিয়ে পিএমও মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই তাঁর কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততা শুরু হয়।
সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের বিশেষ ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশন’-এ যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন তিনি। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
সামগ্রিকভাবে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সংক্ষিপ্ত সফরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও জনগণের প্রত্যাশার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর নির্ধারিত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হবে।