আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী

আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম : প্রধানমন্ত্রী
তিনি আরো বলেন, ‘ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে যেমন সংযত থাকেন, তেমনি পরাজয় থেকেও শিক্ষাগ্রহণ করেন। আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে, সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারি বজায় রাখার অনুরোধ জানাই।’
‘আমাদের তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবেলার শিক্ষা দেয়।’
‘অ্যাথলেটিক্সে আমাদের মেয়েরাও যেন পিছিয়ে না থাকে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিভা যেন ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’
‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরো গতিশীল করবে।’
‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং এটি হয়ে উঠুক দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানোর এক পুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটুক, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ুক এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরো সুদৃঢ় হোক, এটাই আমার প্রত্যাশা।’
এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আমি আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি বলে শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
