একযোগে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

একযোগে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:২৮ জুন ২০২৬,

inside-post

দেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় উদ্ভাবন, বিজ্ঞানচর্চা, উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি এবং জলবায়ু সচেতনতা জোরদারে সোমবার দুটি বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এর মধ্যে রয়েছে ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’–এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’ এবং ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি সেখান থেকে একযোগে দেশের দুটি বড় জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই দেশব্যাপী উপজেলা, জেলা, মহানগর ও জাতীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনে এ আয়োজন করা হয়েছে।

এ কর্মসূচিতে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি দলে রয়েছেন তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক। গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানায় সফলভাবে উপজেলা পর্যায়ের শোকেসিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮ হাজার ২৯টি দলে মোট ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। ওইদিন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষুদে উদ্ভাবকদের উৎসাহ দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের এসব আয়োজনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, কর্মমুখী শিক্ষা, স্টার্টআপ উন্নয়ন এবং মেধার স্বীকৃতির মতো সরকারি অগ্রাধিকারের বাস্তবায়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল জাতীয় পর্যায়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করবে। প্রদর্শনী শেষে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষকদের ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ এবং শিক্ষার্থীদের ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ দেওয়া হবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে সোমবার দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, এক হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা।

লেইস প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জলবায়ু সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এ বছর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে।

মাউশি জানিয়েছে, কর্মসূচিকে অংশগ্রহণমূলক করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন। একই সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জলবায়ুবিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভাবনী শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই দুই উদ্যোগ একযোগে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্বগুণ ও পরিবেশ সচেতনতা আরও বিকশিত হবে।

আরো দেখুন