ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করা হলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে : মরিয়মের বাবা

ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করা হলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে : মরিয়মের বাবা

অনলাইন ডেস্ক
মেয়ের মৃত্যুর জন্য শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করেছেন গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এই ঘটনার সব সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

শ্যালকের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওর (ওবায়দুর) একমাত্র লোভ হলো টাকা। আমার মেয়েকে নিয়ে খেলেছে। ওকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে মূল সত্য বেরিয়ে আসবে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ওবায়দুর রহমান তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওই ঘটনার পর থেকেই আমার মেয়ে আমাদের দেখে ভেউ ভেউ করে কাঁদত।

ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হয়ে যেত না। ও-ই তো শুরু করছে, ওই-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে।’ 

গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গাজী নজরুল সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানায় ডিএমপির তেজগাঁওয়ের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে। 

মাসুম বিল্লাহর অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই মরিয়মকে ঘরবন্দি করে রাখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তিনি মেয়েকে তার আপন মামা ওবায়দুর রহমানের কাছে যেতে দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে ওবায়দুরকে বিশ্বাস করলেও সেই সুযোগ নিয়ে তিনি মরিয়মের ভিডিও ধারণ করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় ফোন করে ওবায়দুর তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, টাকা না দেওয়ায় ২০ জুলাই রাতে মরিয়ম ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে তার মেয়েকে ও পরিবারকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছিল।

মেয়ের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়ম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে লজ্জায় ঠিকমতো কথা বলত না। তাকে দেখলে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ত।

তিনি বলেন, ‘সারাক্ষণ। আমার সঙ্গে মেয়ে লজ্জায় কথাই বলত না। আমার সঙ্গে, ওর মায়ের সঙ্গে লজ্জায় কথাই বলত না। আমি গেলে আমার পা জড়ায় ধরে ভেউ ভেউ করে কাঁদত।’

ওবায়দুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিশ্বাস করার কথা উল্লেখ করে মরিয়মের বাবা বলেন, ‘ওর মামা বলে ওরে বিশ্বাস করছিলাম। একটা মানুষ ঘরবন্দি থাকতে পারবে না—এই বিশ্বাস করে ওর কাছে মেয়েটারে দিছিলাম বাইরে বের হতে। কিন্তু সে ভিডিও করে এভাবে ছড়িয়ে দেবে, জানলে জীবনেও দিতাম না।’

শ্যালকে বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ওর একমাত্র লোভ হলো টাকা। ওই ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করবে, ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতাবে।’

মাসুম বিল্লাহ আরো দাবি করেন, ১৩ জুলাই ওবায়দুরের ফোনকলের রেকর্ড যাচাই করলে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, ‘ইজ্জতের ভয়ে ওরে কোনো কিছুই বলিনি, ওর নামে একটা মামলাও করিনি। যখন টাকা দিলাম না, যখন সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দিলাম, তখনই ও এই ভিডিওগুলো সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিল।’

মামাকে বিশ্বাস করে মেয়েটি প্রতারিত হয়েছে দাবি করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর ছিল। কোনো ভুল করলেও একজন মামার উচিত ছিল তাকে রক্ষা করা, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নয়।

শেষে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো সেই প্রথম দিন থেকে চাই যে ওরে ফাঁসি দেওয়া হোক। ওরে ধরে ফাঁসি দেয় না কেন? ওরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না কেন!’

সূত্র : আজকের পত্রিকা

inside-post
আরো দেখুন