বলিউডের ‘নেপো কিড’, সুযোগ পেয়েও সফল হতে পারেননি যারা

বলিউডের ‘নেপো কিড’, সুযোগ পেয়েও সফল হতে পারেননি যারা

বিনোদন ডেস্ক

বলিউডে তারকা পরিবারের সন্তান হিসেবে অভিষেকের সুযোগ পাওয়া অনেকের জন্যই তুলনামূলক সহজ। পরিচিত পারিবারিক নাম, প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থার সমর্থন, নামী পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগ—সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই বাড়তি সুবিধা পান তারা।

প্রথম ছবির প্রচারেও থাকে বড় আয়োজন। তবে তারকা পরিবারের পরিচয় কিংবা জমকালো অভিষেকই যে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়, তা প্রমাণ করেছেন অনেকেই। কেউ প্রথম ছবির পর আর দর্শকের মন জয় করতে পারেননি, কেউ একের পর এক সুযোগ পেয়েও নায়ক-নায়িকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। আবার কেউ অভিনয় ছেড়ে মন দিয়েছেন প্রযোজনা কিংবা অন্য পেশায়।
বলিউডের এমন কয়েকজন ‘নেপো কিড’-এর গল্প জেনে নেওয়া যাক। 

r

উদয় চোপড়া

বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত যশ চোপড়ার ছোট ছেলে উদয় চোপড়া। তার বড় ভাই আদিত্য চোপড়াও বলিউডের পরিচিত পরিচালক ও প্রযোজক। ২০০০ সালে আদিত্য পরিচালিত ‘মহব্বাতে’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় উদয়ের।

ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন শাহরুখ খান ও অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকা। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়। 

এরপর ‘মেরে ইয়ার কি শাদী হ্যায়’ ও ‘নীল অ্যান্ড নিকি’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন উদয়। তবে একক নায়ক হিসেবে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ‘ধুম’ সিরিজে আলি চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেলেও সেই জনপ্রিয়তাকে অন্য ছবিতে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।

২০১৩ সালে ‘ধুম ৩’-এর পর বড়পর্দায় তাকে আর দেখা যায়নি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পরিবর্তে প্রযোজনার কাজে মনোযোগ দেন উদয়। বর্তমানে তিনি যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে যুক্ত এবং যশরাজ এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। 

f

অভিষেক বচ্চন

বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন ও অভিনেত্রী জয়া বচ্চনের ছেলে অভিষেক বচ্চন। ২০০০ সালে জে পি দত্ত পরিচালিত ‘রিফিউজি’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। প্রথম ছবিতে করিনা কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এরপর ‘তেরে লিয়ে’, ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ ও ‘হাঁ ম্যায়নে ভি পেয়ার কিয়া’র মতো ছবিতে কাজ করলেও শুরুতে সাফল্য পাননি। তবে ‘যুবা’, ‘ধুম’, ‘গুরু’, ‘দোস্তানা’ ও ‘বান্টি অর বাবলি’র মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে ‘দাশভি’, ‘ব্রিদ: ইনটু দ্য শ্যাডোজ’ ও ‘আই ওয়ান্ট টু টক’-এর মতো কাজেও প্রশংসা পেয়েছেন। তারকা পরিবারের সন্তান হয়েও ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রত্যাশার চাপ ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে অভিনয় থেকে হারিয়ে যাননি অভিষেক।

f

হারমান বাওয়েজা

পরিচালক হ্যারি বাওয়েজা ও প্রযোজক পাম্মি বাওয়েজার ছেলে হরমন বাওয়েজা। ২০০৮ সালে ‘লাভ স্টোরি ২০৫০’ ছবির মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বিপরীতে বলিউডে অভিষেক হয় তার। ভবিষ্যৎভিত্তিক গল্পের এই ছবিটি নিয়ে মুক্তির আগে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল। হারমানের চেহারা ও নাচের সঙ্গে অভিনেতা হৃতিক রোশনের তুলনাও করা হয়। তাকে বলিউডের পরবর্তী বড় তারকা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল প্রচারে।

কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। পরের বছর ‘ভিক্টরি’ ও ‘হোয়াটস ইয়োর রাশি?’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। সেগুলোও দর্শকের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এরপর অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও চিত্রনাট্য লেখার কাজে যুক্ত হন হারমান। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে ‘স্কুপ’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে প্রশংসা পান। তবে বড়পর্দায় নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি তিনি।

f

জ্যাকী ভাগ্নানী

প্রযোজক বাশু ভাগ্নানীর ছেলে জ্যাকী ভাগ্নানী। ২০০৯ সালে ‘কাল কিসনে দেখা’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। পরিবারের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা থাকায় ছবির প্রচার ও পরবর্তী কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথম ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি।

এরপর ‘ফালতু’ ছবিতে কিছুটা সাড়া পেলেও ‘আজাব গাজাব লাভ’, ‘রাংরেজ’ ও ‘ইয়াংগিস্তান’-এর মতো ছবিতে নায়ক হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি জ্যাকী। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। একসময় অভিনয়ের চেয়ে প্রযোজনার দিকেই বেশি মনোযোগী হন। ‘বেল বটম’ ও ‘মিশন রানিগঞ্জ’-এর মতো ছবির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ নায়ক হিসেবে সাফল্য না পেলেও চলচ্চিত্রজগতে অন্য ভূমিকায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন জ্যাকী।

f

মিমো চক্রবর্তী

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে মিমো চক্রবর্তী। ২০০৮ সালে ‘জিমি’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। তবে প্রথম ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলতে পারেনি।

এরপর ‘দ্য মার্ডারার’, ‘হন্টেড ৩ডি’ ও ‘লুট’ ছবিতে অভিনয় করেন মিমো। বিশেষ করে বিক্রম ভাট পরিচালিত ‘হন্টেড ৩ডি’ তাকে কিছুটা পরিচিতি এনে দেয়। ছবিটি দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করলেও সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বাবার মতো জনপ্রিয় তারকা হয়ে উঠতে না পারলেও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন মিমো।

f

সূরাজ পাঞ্চোলী

অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি ও জারিনা ওয়াহাবের ছেলে সূরজ পাঞ্চোলী। তাকে বলিউডে অভিষেক করান সালমান খান। ২০১৫ সালে সালমান খানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘হিরো’ ছবির মাধ্যমে আথিয়া শেট্টির বিপরীতে বড়পর্দায় আসেন তিনি। ছবিটি মুক্তির আগে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল। নতুন দুই মুখকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহও ছিল।

তবে সেই প্রচার বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি। অভিনয় নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া পান সূরাজ। এরপর কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করলেও নিয়মিত বড়পর্দায় দেখা যায়নি তাকে। তারকা পরিবারের পরিচিতি ও সালমান খানের সমর্থন থাকলেও প্রথম সারির অভিনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি তিনি।

b

আথিয়া শেট্টি

অভিনেতা সুনীল শেট্টির মেয়ে আথিয়া শেট্টির বলিউডে অভিষেকও ‘হিরো’ ছবির মাধ্যমে। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সূরাজ পাঞ্চোলী। নতুন মুখ হিসেবে আথিয়াকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হলেও ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

পরে ‘মুবারকাঁ’ ও ‘মতিচুর চাকনাচুর’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তবে নায়িকা হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। ক্রিকেটার কে এল রাহুলের সঙ্গে বিয়ের পর পর্দায় তার উপস্থিতি আরো কমে যায়। অল্প কয়েকটি ছবিতে কাজ করেই অভিনয় থেকে অনেকটা দূরে সরে যান আথিয়া।

t

তানিশা মুখার্জি

অভিনেত্রী তনুজার মেয়ে এবং কাজলের বোন তানিশা মুখার্জি বলিউডে পরিচিতির অভাব ছিল না। ২০০৩ সালে ‘শশশশ…’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় শুরু করেন তিনি। এরপর ‘পপকর্ন খাও! মাস্ত হো যাও’, ‘ট্যাঙ্গো চার্লি’ ও ‘নীল অ্যান্ড নিকি’ ছবিতে কাজ করেন।

২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সরকার’ এবং এর পরের ছবি ‘সরকার রাজ’-এও অভিনয় করেন তানিশা। একাধিক ছবিতে কাজের সুযোগ পেলেও মুখ্য অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি। পরে অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। বিশেষ করে ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়ার পর তাকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বাড়ে।

g

ফারদীন খান

প্রয়াত অভিনেতা ও পরিচালক ফিরোজ খানের ছেলে ফরদীন খানের বলিউডে অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালে, বাবার পরিচালনায় ‘প্রেম আগান’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিতে অভিনয়ের জন্য নবাগত অভিনেতা হিসেবে পুরস্কারও পান তিনি। এরপর ‘জাঙ্গাল’ ও ‘পেয়ার তুনে ক্যা কিয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন।

তবে তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ‘নো এন্ট্রি’, ‘হে বেবি’ ও ‘অল দ্য বেস্ট’। এসব ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি পেলেও একক নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি ফারদীন। ২০১০ সালের ‘দুলহা মিল গ্যায়া’র পর দীর্ঘ সময় বড়পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। পরে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘হীরামান্ডি’ সিরিজের মাধ্যমে আবার অভিনয়ে ফেরেন। ‘খেল খেল মে’ ছবিতেও দেখা গেছে তাকে।

r

জায়েদ খান

অভিনেতা সঞ্জয় খানের ছেলে জায়েদ খানের বলিউডে অভিষেক হয় ২০০৩ সালে ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও পরের বছর শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। ছবিটি সফল হওয়ার পাশাপাশি তার জনপ্রিয়তাও বাড়ে।

এরপর ‘দশ’, ‘শব্দ’ ও ‘ফাইট ক্লাব’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন জায়েদ। তবে এসব কাজ তাকে প্রথম সারির নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। একসময় বড়পর্দায় তার উপস্থিতি কমতে থাকে। পরে অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য কাজেও মনোযোগী হন তিনি।

v

শামিতা শেট্টি

অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির বোন শমিতা শেট্টি ২০০০ সালে ‘মহব্বাতেঁ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। আদিত্য চোপড়া পরিচালিত ছবিতে শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মতো তারকার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়।

এরপর ‘মেরে ইয়ার কি শাদী হ্যায়’ ও ‘জেহের’ ছবিতে অভিনয় করেন শমিতা। ‘শারারা শারারা’ গানের মাধ্যমে নাচেও পরিচিতি পান তিনি। তবে প্রধান অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও বড় বোন শিল্পা শেট্টির মতো সাফল্য পাননি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিয়ে আবার আলোচনায় আসেন তিনি।

gh

টুইঙ্কল খান্না

বলিউডের প্রয়াত সুপারস্টার রাজেশ খান্না ও অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার মেয়ে টুইঙ্কল খান্না। ১৯৯৫ সালে ‘বারসাত’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। প্রথম ছবিতেই সেরা নবাগত অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। এরপর ‘জান’, ‘জাব পেয়ার কিসিসে হোতা হ্যায়’, ‘বাদশাহ’ ও ‘মেলা’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন। শাহরুখ খান ও আমির খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগ পেলেও নায়িকা হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি তিনি। ২০০১ সালে ‘লাভ কে লিয়ে কুছ ভি কারেগা’ ছবির পর অভিনয় থেকে সরে দাড়ান টুইঙ্কল। পরে লেখালেখি, ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও চলচ্চিত্র প্রযোজনায় যুক্ত হন। লেখক হিসেবেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি।

f

রিঙ্কি খান্না

বলিউডের প্রয়াত সুপারস্টার রাজেশ খান্না ও অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়ার ছোট মেয়ে রিঙ্কি খন্না। অভিনেত্রী টুইঙ্কল খন্নার বোন রিঙ্কির অভিনয়ে অভিষেক হয় ১৯৯৯ সালে ‘পেয়ার মে কাভি কাভি’ ছবির মাধ্যমে।

এরপর ‘জিস দেশ মে গাঙ্গা রাহেতা হ্যায়’, ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ ও ‘ঝাঙ্কার বিটস’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কয়েকটি ছবিতে নজর কাড়লেও বলিউডের মূলধারায় নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে বিয়ে করে সংসারে মনোযোগী হন এবং অভিনয় থেকে সরে যান।

r

অধ্যয়ন সুমন

অভিনেতা শেখর সুমনের ছেলে অধ্যয়ন সুমনের বলিউডে অভিষেক হয় ২০০৮ সালে ‘হাল-এ-দিল’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবিটি বিশেষ সাফল্য না পেলেও পরের বছর ‘রাজ: দ্য মিস্ট্রি কন্টিনিউজ’ ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রনৌতের সঙ্গে অভিনয় করা ছবিটি বাণিজ্যিক সাফল্য পাওয়ায় তার ক্যারিয়ার নিয়েও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

তবে এরপর বড়পর্দায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি অধ্যয়ন। বেশ কয়েক বছর পর ‘আশ্রম’, ‘ইনস্পেক্টর অবিনাশ’ ও ‘হীরামান্ডি’র মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে আবার আলোচনায় আসেন তিনি। সিনেমার নায়ক হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও ওয়েব দুনিয়ায় কাজের মাধ্যমে নতুন করে পরিচিতি পেয়েছেন।

t

হর্ষবর্ধন কাপুর

অভিনেতা অনিল কাপুরের ছেলে এবং সোনম কাপুরের ভাই হর্ষবর্ধন কাপুর। ২০১৬ সালে রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা পরিচালিত ‘মির্জিয়া’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় তার। ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন হর্ষবর্ধন। মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে বড় পরিসরে প্রচার চালানো হলেও দর্শকের মধ্যে প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি।

এরপর ‘ভাবেশ জোশী সুপারহিরো’, ‘এক্সরে: দ্য ইনার ইমেজ’ ও ‘থার’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। তবে মূলধারার বলিউডে নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। বড় বাজেটের বাণিজ্যিক ছবির বদলে ভিন্নধর্মী ও বাছাই করা প্রকল্পে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী দেখা গেছে তাকে।

y

ঈশা দেওল

ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর মেয়ে ঈশা দেওল বলিউডে পা রাখেন ২০০২ সালে ‘কোই মেরে দিল সে পুছে’ ছবির মাধ্যমে। প্রথম ছবির জন্য সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কারও পান তিনি। এরপর ‘যুবা’, ‘ধুম’ ও ‘নো এন্ট্রি’র মতো ছবিতে অভিনয় করেন ঈশা।

বিশেষ করে ‘ধুম’ ও ‘নো এন্ট্রি’ বাণিজ্যিক সাফল্য পাওয়ায় একটা সময়ে অভিনেত্রী হিসেবে তার পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে অভিনয় কমিয়ে দেন তিনি। মাঝখানে দীর্ঘ বিরতিও নেন। ফলে নিয়মিত বড়পর্দায় তাকে আর দেখা যায়নি। তারকা পরিবারের পরিচিতি ও কয়েকটি সফল ছবি থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি অভিনয় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেননি ঈশা।

f

তুষার কাপুর

অভিনেতা জিতেন্দ্রর ছেলে তুষার কাপুরের বলিউডে অভিষেক হয় ২০০১ সালে ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে। ছবিতে কারিনা কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করে শুরুতেই পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘জিনা সির্ফ মেরে লিয়ে’, ‘কুছ তো হ্যায়’, ‘খাকি’ ও ‘গায়েব’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন। তবে একক নায়ক হিসেবে ধারাবাহিক সাফল্য পাননি। পরে ‘গোলমাল’ সিরিজে লক্ষ্মণ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তুষার। কমেডি চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করলেও মূলধারার রোমান্টিক বা অ্যাকশন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার কাজেও যুক্ত হয়েছেন তুষার।

6

অর্জুন কাপুর

চলচ্চিত্র প্রযোজক বনি কাপুরের ছেলে অর্জুন কাপুরের বলিউডে অভিষেক হয় ২০১২ সালে ‘ইশাকজাদে’ ছবির মাধ্যমে। পরিণীতি চোপড়ার বিপরীতে অভিনয় করে প্রথম ছবিতেই প্রশংসা পান তিনি। এরপর ‘অরেঞ্জেব’, ‘গুন্ডে’ ও ‘টু স্টেটস’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন। এসব ছবির সাফল্যে তাকে ঘিরে প্রত্যাশাও বাড়ে। তবে পরবর্তী সময়ে ‘তেভার’, ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’, ‘নামাস্তে ইংল্যান্ড’ ও ‘ইন্ডিয়াজ মোস্ট ওয়ান্টেড’-এর মতো ছবিতে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। অভিনয় নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে তার অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন ও পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন দর্শকের একাংশ। ২০২৪ সালে ‘সিংগাম এগেইন’ ছবিতে খলচরিত্রে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন। তারকা পরিবারের পরিচিতি ও বড় ব্যানারের ছবিতে কাজের সুযোগ পেলেও নায়ক হিসেবে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি অর্জুন।

inside-post
আরো দেখুন