দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে গতি ফেরাতে রাজধানীতে বসল এআই সামিট

দেশের শিল্প ও বাণিজ্যে গতি ফেরাতে রাজধানীতে বসল এআই সামিট

  • ১৪২ স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্ভাবন
  • অংশ নিচ্ছে ১৫০-এর বেশি স্টার্টআপ
inside-post
নিজস্ব প্রতিবেদক
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন গতি সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।

 

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘AI-Driven Economy for Tomorrow’। আয়োজকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা পরিচালনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সেবা খাতের রূপান্তরের অন্যতম চালিকাশক্তি। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যে দায়িত্বশীলভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং এ খাতে জাতীয় সক্ষমতা গড়ে তোলাই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উদ্ভাবকদের পণ্য এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য ১৪২টি স্টল রাখা হয়েছে।

এতে ১৫০টির বেশি স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরছে। এ ছাড়া ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি এআই প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনের জন্য আলাদা স্টল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ রয়েছে।এবারের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের হিসেবে, সম্মেলনে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথির অংশগ্রহণ রয়েছে।

ডিসিসিআই ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ২০০ জন। 

দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজকরা আশা করছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগ দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দেশে একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানোর পথ তৈরি করবে।

আরো দেখুন