ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সংসদে শ্রদ্ধা নিবেদন

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সংসদে শ্রদ্ধা নিবেদন
আলোচনা শেষে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন। সব সময় বলতেন, নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা যখন আইনি হয়রানির শিকার হতেন, তখন জমির উদ্দিন সরকার তাদের পাশে দাঁড়াতেন। আদালতে মামলা পরিচালনা করলেও কখনো পারিশ্রমিক নিতেন না। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব। তার এই অবদান কোনো দিন ভোলার নয়।
তিনি আরো বলেন, স্পিকার হিসেবে তিনি সংসদকে প্রাণবন্ত করেছিলেন। আইন অঙ্গনে তিনি ছিলেন অনেকের শিক্ষক। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক। তাকে কখনো থ্রি-পিস স্যুট ছাড়া দেখা যেত না। তার ব্যক্তিত্ব, শিষ্টাচার ও সৌজন্য ছিল অনুকরণীয়। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
তিনি বলেন, দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ। বয়সের কারণে নিজে নির্বাচন না করে ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন করলে নিশ্চিতভাবেই বিজয়ী হতেন।
তিনি আরো বলেন, প্রথা অনুযায়ী সাবেক স্পিকারদের যেভাবে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়, জমির উদ্দিন সরকারকেও সেখানেই সমাহিত করা হবে। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও সংসদেই চিরদিন থাকবেন।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্মৃতিচারণা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দূর থেকে হ্যাট, কোট ও ছাতা হাতে কাউকে দেখলেই বোঝা যেত তিনি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পেশাদার।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, জাতি আজ একজন মহান রাজনীতিক, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি।
উল্লেখ্য, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রবিবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংসদ ভবনেও ছিল শোকের আবহাওয়া।
