স্কুলের বারান্দা ঘেঁষে গভীর পুকুর ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

স্কুলের বারান্দা ঘেঁষে গভীর পুকুর ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যালয় ভবনের বারান্দা ঘেঁষে গভীর পুকুর। রয়েছে সংকুচিত পথ। ভবনের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে বয়ে গেছে খাল। বিদ্যালয়ে চারপাশে নেই কোনো প্রাচীর। খালের ওপর একটি ভাঙা কাঠের সাঁকো। নিচে কচুরিপানা জমে আছে। নিচে কত গভীর পানি আছে তা কেউ জানে না। দুর্গন্ধযুক্ত পানি যেন হাতছানি দিচ্ছে মৃত্যুকে। নেই খেলার মাঠ ও শিশুদের নিরাপদ চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান চলছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়ন পূর্ব বাতাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
খালের ওপর বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয় কাঁদাপানি মাড়িয়ে। কর্দমাক্ত কাঁচা রাস্তায় শিক্ষার্থীদের হাঁটা প্রায় অসম্ভব। এই আতঙ্কের মধ্যেই ক্লাস করছে শিশুশিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের এ অবস্থা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে তারা আতঙ্কে দিন কাটান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানকার শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৪৫ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৬ জন। ১৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে পুকুরের পাড় ঘেঁষে ২০১৮ সালের শেষদিকে দ্বিতীয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পুকুরে রয়েছে বিদ্যালয়ের ১৭ শতাংশ জায়গা। বর্তমানে ওই ভবনের নিচের মাটি পুকুরে ধসে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সংকুচিত পথ দিয়ে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে নেই কোনো পাকা রাস্তা। স্কুলের বারান্দার উত্তর দিকে ঘেঁষে রয়েছে বড় পুকুর। ভবনের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে বয়ে গেছে খাল। পশ্চিম দিকে রয়েছে বসতবাড়ির চলাচলের মাটির রাস্তা। সেই রাস্তটি কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত।
এদিকে, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য খালের ওপর রয়েছে একটি ভাঙা কাঠের সাঁকো। এর দক্ষিণ দিকে শতাধিক বসতবাড়ি। সাঁকোর নিচে কচুরিপানা জমে আছে, সেখানে গভীর পানি। ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে সাঁকো পার হয়। তাদের এক হাতে থাকে স্কুলব্যাগ, অন্য হাতে খুঁটি ধরে তারা টলমল পায়ে এগোয়। অসাবধানতায় অনেকেই নিচে পড়ে যায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটায় অভিভাবকরা সন্তানদের ওই স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাহারুল আলম বাবর বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে খালের ওপর সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। পুকুর ভরাট করলে খেলার মাঠ পর্যাপ্ত বড় হবে। পূর্ব বাতাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, স্কুলে যাতায়াত সমস্যা ও মাঠের অভাবে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হলে ৩৩ শতাংশ জমি প্রয়োজন। পুকুরে বেশির ভাগ জমি পড়ে আছে। ১৭ শতাংশ পুকুর ভরাট করলে শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ তৈরি হতো। সহকারী শিক্ষক আহছানউল্লা বলেন, সহশিক্ষা কার্যক্রম আর শারীরিক শিক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, দ্রুত পুকুরটি ভরাটের কাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই খেলার মাঠের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি আশাবাদী।