আস্থা ফিরছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে

আস্থা ফিরছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ গ্রাহক ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯০৭ গ্রাহক উত্তোলন করেছেন মাত্র ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ গ্রাহক ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। ৭ সেপ্টেম্বর তাদের মধ্যে ৮ হাজার ১২৫ জন ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ গ্রাহকের ১ হাজার ১৬ কোটি টাকার আবেদনের বিপরীতে ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন উত্তোলন করেন ৩৪০ কোটি টাকা।
এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, অর্থ ফেরত কার্যক্রম শুরুর পর চার দিনে ব্যাংকটিতে নতুন করে জমা পড়েছে ৮৯৪ কোটি টাকা। ৭ সেপ্টেম্বর ১৪১ কোটি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫ কোটি, ৯ সেপ্টেম্বর ২৪৪ কোটি এবং ১০ সেপ্টেম্বর ৩১৪ কোটি টাকা নতুন আমানত হিসেবে জমা হয়।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের বড় একটি অংশ আবেদন করেও টাকা তুলছেন না। শাখা থেকে ফোন করা হলে অনেকে টাকা না তোলার কথা জানাচ্ছেন।
একীভূত ব্যাংকটি গঠিত হয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক নিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণ ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যাংকগুলো আমানত ফেরত দেওয়া ও দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে। গত বছরের ডিসেম্বরে এসব ব্যাংক নিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
আমানত ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেয়। আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, আমানতের ওপর কোনো হেয়ারকাট হবে না। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত উত্তোলনের সুযোগও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। এখন পর্যন্ত আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমেছে।
তবে ব্যাংকটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত জনবল প্রায় ১৬ হাজার। শাখা ৭৫৯টি এবং উপশাখা প্রায় ৭০০। এসবের পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল ব্যবস্থাপনা করে কার্যক্রমকে দক্ষ ও টেকসই কাঠামোয় আনা জরুরি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক এ স্বস্তিকে স্থায়ী সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, খেলাপি ঋণ আদায়, তারল্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং সময়মতো আমানত ফেরতের সক্ষমতা ধরে রাখার ওপরই নির্ভর করবে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ।
২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এ আস্থা ধরে রাখতে সুশাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।
