আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির মুখেও যেভাবে মাথা নত করেননি শাহরুখ

আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির মুখেও যেভাবে মাথা নত করেননি শাহরুখ

অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক কেউই পুরোপুরি নিরাপদ ছিলেন না। সঞ্জয় গুপ্তা জানান, এক পাঞ্জাবি অভিনেতার মরদেহ ফিল্ম সিটিতে পাওয়া গিয়েছিল। পরে জানা যায়, তিনি পুলিশের তথ্যদাতা ছিলেন। অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সচিবকেও তাঁর অফিসে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। নির্মাতা রাকেশ রোশনের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
তাঁর মতে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের দৌরাত্ম্য শুধু চাঁদাবাজির ফোন বা হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব বিস্তার ছিল।
সঞ্জয় গুপ্তা বলেন, সে সময় অনেক শীর্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রীকে ভবিষ্যতে নির্মিত হবে এমন সিনেমার চুক্তিপত্রে সই করানো হতো। কখনো কখনো আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা সরাসরি শুটিং সেটেও উপস্থিত হতেন এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ পর্যবেক্ষণ করতেন।
তবে শাহরুখ খান এ ক্ষেত্রে ছিলেন ব্যতিক্রম বলে দাবি করেন সঞ্জয় গুপ্তা। তাঁর ভাষ্য, হুমকি পাওয়ার পরও শাহরুখ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের জন্য কোনো সিনেমা বা অনুষ্ঠান করবেন না। এমনকি নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি ভয় না পাওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন।
সঞ্জয় গুপ্তার মতে, শাহরুখের এমন দৃঢ় অবস্থান শেষ পর্যন্ত অপরাধী চক্রের মধ্যেও তাঁর প্রতি একধরনের শ্রদ্ধা তৈরি করেছিল। কারণ, চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাবের বিষয়টি এর আগেও বিভিন্ন তারকার বক্তব্যে উঠে এসেছে। নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ওই সময়ে চলচ্চিত্রজগতের ওপর অপরাধী চক্রের চাপ ছিল বাস্তবতা।
এক পডকাস্টে ফারাহ খানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নব্বইয়ের দশকে শাহরুখ, সালমান ও আমির তিন খানই আন্ডারওয়ার্ল্ডের চাপের মুখে পড়েছিলেন কি না। উত্তরে তিনি সম্মতি জানান। তবে শাহরুখকে সরাসরি কোনো ফোন করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না তিনি।
ফারাহ জানান, ‘ডুপ্লিকেট’ কিংবা ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির প্রিমিয়ারের সময় নির্মাতা করণ জোহর হুমকি পেয়েছিলেন বলে আলোচনা হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে প্রিমিয়ার বাতিল করা হবে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
টেলিভিশন দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করা শাহরুখ খান নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মুম্বাইয়ে এসে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’-এর মতো টেলিভিশন ধারাবাহিকে পরিচিতি পাওয়ার পর ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর একের পর এক সাফল্যের মধ্য দিয়ে বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকায় পরিণত হন তিনি।
তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে শাহরুখের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’-এর সাফল্যের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন তিনি। এবার তাঁর পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তির কথা রয়েছে।