আমৃত্যু দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই : রাষ্ট্রপতি

আমৃত্যু দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই : রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে একটি শপথ, একটি প্রতিজ্ঞা করতে চাই। আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দেন, তাহলে আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের অধিকারগুলো রক্ষা করতে চাই, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে কাজ করতে চাই।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড়মাঠে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ আপনাদের সামনে একটি শপথ, একটি প্রতিজ্ঞা করতে চাই। আল্লাহ যদি আমাকে তৌফিক দেন, তাহলে আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের অধিকারগুলো রক্ষা করতে চাই, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে কাজ করতে চাই।’
ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে সম্মান ও ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন, আমি চিরদিন তা মনে রাখব। এই ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারব না। আমি পরম আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি, তিনি আজ আমাকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করতে পারব।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা কখনো মনে করবেন না যে, আমি আপনাদের থেকে দূরে চলে গেছি কিংবা আপনারা আমার থেকে দূরে চলে গেছেন। আমি সব সময় আপনাদের সাথে ছিলাম, আপনাদের সাথেই থাকব।’
সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও লড়াই-সংগ্রামের পর আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ পেয়েছি। আসুন, কোনো লড়াই, সঙ্ঘাত, সংঘর্ষ, প্রতিশোধ কিংবা রক্তপাত নয়; ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একটি সত্যিকার অর্থে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’
এর আগে দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে তিনি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) এবং মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।
বিকাল সাড়ে ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড়মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় মাঠে উপস্থিত হাজারো সাধারণ মানুষ করতালির মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডা. এবিএম খয়রুর কবিরের সভাপতিত্বে এবং ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. শহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে এবং মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আইয়ুব আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তারা।