সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দ্রুত বিচারের দাবিতে কাফনের কাপর পরে মানববন্ধন

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দ্রুত বিচারের দাবিতে কাফনের কাপর পরে মানববন্ধন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

inside-post

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬,

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। এ জন্য ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নেত্রকোনা শহরে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিট যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের চেয়ারম্যান ও প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক খাইরুল আলম, সভাপতি আরিফুল ইসলাম, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মো. মোহন মিয়া, সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম, সনকালের কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, নিহত সাংবাদিক আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক আলিফকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবারের স্বজন কেড়ে নেওয়া হয়নি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে। আলিফ সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতেন। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য তুলে ধরার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো আসামি যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার, ১৫ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। পরে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল রোববার গ্রেফতার হওয়া ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন ও মো. সাব্বির আহম্মেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে তাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরো দেখুন