ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইলন মাস্কের কটাক্ষ

ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইলন মাস্কের কটাক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। রসিকতা করে তিনি বলেছেন, তার কথিত ‘নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী মহাকাশ লেজার’ও কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি।
এনডিটিভি জানায়, রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। কিন্তু টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দলটি বড় ধাক্কা খাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরেকটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘মহাকাশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’ টেক্সাসের নবনির্বাচিত সিনেটর জেমস টালারিকো মাস্ক ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করার কিছুক্ষণ পরই এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের জয় উদ্‌যাপন করতে টেক্সাসের অস্টিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টালারিকো বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে পিছিয়ে থেকে লড়াই শুরু করেছিলাম। আমাদের লড়তে হয়েছে ৩০ কোটি ডলারের বেশি অর্থের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো সিনেট নির্বাচনে এত অর্থ খরচ হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে ছিল নেতিবাচক বিজ্ঞাপন, অপপ্রচার, বিদেশি বট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুয়া ভিডিও।

টালারিকোর এই জয়কে নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিজয়ী ভাষণে টালারিকো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদমের মালিক ধনকুবেরদের সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি সরাসরি মাস্কেরও সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বে গত এক দশকের মার্কিন রাজনীতিরও সমালোচনা করেন টালারিকো।

তার মতে, দেশটির রাজনীতি এখন ‘রক্তক্ষয়ী লড়াই’, ‘অন্যকে উত্ত্যক্ত করা ও হারানোর খেলা’ এবং ‘পেশাদার কুস্তির’ মতো হয়ে উঠেছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ আবারও ডেমোক্র্যাটদের হাতে যেতে পারে। এতে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের অন্যতম বড় অর্থদাতা ছিলেন মাস্ক। এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের সহায়তা করতে তিনি প্রায় ২৫ কোটি ডলার খরচ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর প্রযুক্তি খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ওপর এই জয়ের কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। লেনদেন শুরুর আগের সূচকগুলোতে দরপতন হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরো শক্ত করেছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার বিরোধিতা করার সুযোগও বেড়েছে তাদের।

inside-post
আরো দেখুন