যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হলেন আল-সাঈদ
বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কার্যালয়ে নিজের জয়ের ঘোষণা দেন আল-সায়েদ। তিনি জানান, ভোটাররা তাকে নিজেদের বাড়ি, গির্জা ও সিনাগগে স্বাগত জানিয়েছেন। গত দেড় বছর ধরে মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।কঠিন সময়ে ভোটাররাই তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদের নাম ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে নানা ধরনের আক্রমণ করা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সিনেটে প্রবেশের সময় তাকে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলেও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।
এল-সায়েদ বলেন, ‘তারা এমন এক আমেরিকা চান, যেখানে অনেকের জায়গা হবে না। অথচ আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক আব্দুল আল-সায়েদ। বছরের শুরুতে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে দলের পছন্দের প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে হারিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। নির্বাচনী প্রচারে আল-সায়েদ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে কথা বলেন। পাশাপাশি ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধেরও দাবি জানান।
এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীই বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রিপাবলিকানরা নির্বাচনটিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী রাজনীতির প্রতি ভোটারদের সমর্থন যাচাইয়ের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। আল-সায়েদ মনোনয়ন পাওয়ার পর ট্রাম্প তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘জিহাদি’ বলে আক্রমণ করেন। এমনকি তাকে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলেও অভিযোগ করেন।
সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ছিল একজন প্রগতিশীল প্রার্থীর জন্য বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে নতুন ধারার রাজনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব কেমন, তা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছিল এই লড়াইয়ে।
ইসরায়েলপন্থী লবি ‘আইপ্যাক’ তাদের সহযোগী সংগঠন ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক নির্বাচনে এল-সায়েদকে হারাতে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। কোনো একটি নির্বাচনী লড়াইয়ে এটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাধারণ নির্বাচনে দুই দল মিলে বিজ্ঞাপনের পেছনে ২২ কোটি ডলারের বেশি খরচ করে।
বিজয়ী ভাষণে এল-সায়েদ বলেন, করের টাকা দেশের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুদ্ধের পেছনে জনগণের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স শুরুতে ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের অবসান এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান।
রজার্স এর আগে ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর বিরোধিতা করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা দাবিরও পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। রিপাবলিকানরা নির্বাচনী প্রচারে এল-সায়েদকে মিশিগানের মতো দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের জন্য অতিরিক্ত বামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে।
আগস্টে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা যায়, মিশিগানের ৫৪ শতাংশ ভোটার তার রাজনৈতিক অবস্থানকে অতিরিক্ত চরমপন্থী মনে করেন। একই জরিপে ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রজার্স ট্রাম্পের খুব ঘনিষ্ঠ।
